বলছিলাম যে, আমাদের জীবনীশক্তি উৎপন্ন হয় আমাদের নিশ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে আমাদের অভ্যন্তরে প্রবেশকারি প্রাণ-এর প্রভাবে।
এই প্রাণকে বাহিত করে বায়ু। তাই আমাদের এমন ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস কার্য করা উচিত যাতে প্রাণ দেহের প্রতিটি চক্রে পৌছে যায়।
আসুন আমাদের শরিরে বিভিন্ন শক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র গুলোকে চিনে নেই। সাধারন ভাবে আমরা যেভাবে বাঁচি তাতে বেশির ভাগ মানুষের
মধ্যেই এই শক্তি উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো তাদের ক্যাপাসিটি'র দশ ভাগের মধ্যে খুব বেশি হলে চার ভাগ শক্তি উৎপন্ন করে। উদাহরন দেই --------ইন্টারনেটের সাহায্যে আমরা কত কী করতে পারি, কত তথ্য জানতে পারি--------কিন্তু আমি ইন্টারনেটের সাহায্যে শুধু প্রথম
আলোতে ব্লগিং করি---এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় ছবি আপলোড ডাউনলোড করি। অর্থাত এত সম্মৃদ্ধ একটা প্রযুক্তি থেকে আমি নিতে পারছিনা অথচ
এর দেয়ার আছে অনেক কিছু।
জেনে নিন, এই শরিরের চেয়ে বড় প্রযুক্তি আর কিছু নেই হবেও না কোনদিন। এক একটি মানব শরির এক একটি বিশ্বব্রহ্মান্ড। এর মুল্যায়ন করার
মত পর্যাপ্ত জ্ঞান আমাদের নেই।খুব সহজেই আমরা বলে দেই যে, আমি কিছু হতে পারলাম না, আমি অতি নগন্য!!!! আমি একজন মানুষ হয়েছি!
এর চেয়ে বড় আর আমি কী হতে পারি? ঐযে ভিখিরী হাত পেতে দাঁড়িয়ে আছে তার কর্মকে আমরা নগন্য বলতে পারি কিন্তু তার শরিরটা কি নগন্য? পারবেন কেউ একটা ভিক্ষুক সৃষ্টি করতে? এই ভিক্ষুক যদি হঠাৎ হেসে উঠে ভিক্ষা থালা ফেলে দিয়ে বলে আরে আমি এ দেশের প্রেসিডেন্ট---ছদ্মবেশে
সবাইকে পর্যবেক্ষণ করছিলাম।তবে সেই একই শরির হয়ে উঠবে পুজনীয় শাষকের! যাকে একটু আগেই আমরা দূর দূর করেছিলাম!!!!!!
তাই নিজেকে নগন্য না ভেবে আত্মমগ্ন হোন। কে কী করল, কে কী হল তা না ভেবে নিজের প্রতি মনযোগী হোন। নিজ মানে আপনি---হ্যা
আপনি---মহামুল্যবান আপনি। কে আপনি? আপনি শুধু এক নাম নন--শরির নন--ধনী নন--দরিদ্র নন---আপনি হচ্ছেন আপনি।
আপনার প্রকৃত স্বত্বা লুকিয়ে আছে আপনার শরিরের মধ্যে। সেই স্বত্বা জেগে উঠলেই আপনি হবেন আপনি! বিধাতার সৃষ্টির অনন্য সুন্দর মানব/
মানবী রূপ!
এই শরিরে রয়েছে আট চক্র। ছবিতে সাতটি দেখা যাচ্ছে আর একটি অদৃশ্য। পূর্ণ যোগীদের ছবি'র সাথে সবসময় মাথার উপরে একটি পূর্ণ ফোঁটা
পদ্ম দেখা যায়। আমার ধারনা সেটাই অষ্টমতম। আর রয়েছে নয়টি দ্বার ( দুই চোখ, দুই কান, মুখ, পায়ু এবং উপস্থ)। আর সবার উপরে
রয়েছে সেই অধরা ----কাছে থেকেও যে দুরে---সেই আয়না মহল। এই হচ্ছে মানব দেহের সবচাইতে সূক্ষতম---সবচাইতে সেনসেটিভ কোষ।
এই কোষ বিকশিত হলেই মানব/মানবী জীবনের সবচাইতে আনন্দময় সুখ অনুভব করে।সেই সুখের সাথে কোন ধন প্রাপ্তি, কোন ক্ষমতা প্রাপ্তি,
কোন মধু-মিলনের সাথেই তুলনা হয়না।
একে পেতে হলে শরির মন সব হতে হয় একদম নিখুঁত। তা পেতে হলে শরিরের অন্যান্য সকল কোষ সমুহকে বিকশিত করতে হবে। খুব
দুরের কোন শব্দ শুনতে হলে আমরা মনকে কেন্দ্রীভুত করি, আশপাশের অন্যসব শব্দ তখন আমরা শুনিনা। তেমনি সেই অতি সূক্ষ অনুভুতিকে
পেতে হলে আমাদের গভীর মনযোগী হতে হবে।শরিরকে করতে হবে অতি স্থির।
এবার প্রশ্ন করতে পারেন সংগীতের সাথে এর সম্পর্ক কী? আছে। প্রাণকে যেমন বায়ু বহন করে আমাদের দেহের সব জায়গায় পৌছে দেয়, মনকে
তেমনি তার ইন্দ্রীয় বহন করে কেন্দ্রে নিয়ে যায়।তাই সেই চরম সুন্দরের কাছে পৌছাতে আমরা যে যার মত ইন্দ্রীয় ব্যাবহার করি।সুর সাধকের
ইন্দ্রীয় হচ্ছে শ্রবণ। আমরা প্রথমে দেহকে বীণার মত নিখুঁত টান টান সংবেদনশীল করে গড়ে তুলব, কন্ঠকে সাধনার দ্বারা মধুর করে তুলব,
তারপর দমের প্রয়োগে তাতে সুলোলিত সুর তুলে সেই সুরে শ্রবণকে স্থাপন করে পৌছানোর চেষ্টা করব সেই সূক্ষ অনুভুতি সম্পন্ন কোষে।
আমাদের দেহে চক্রসমুহ না ফোঁটা পদ্মের মত অধোমুখ হয়ে অবিকশিত অবস্থায় থাকে। গভীর মনোযোগের সাথে শ্বাস প্রশ্বাসই এদের প্রস্ফুটিত
করে।
আর এই মনযোগ সৃষ্টিকর্তার স্মরণ ব্যাতীত সম্ভব না। অতএব আমরা যে গভীর শ্বাস প্রশ্বাস নেব তা হচ্ছে জিকির। যে যে নাম পবিত্র মনে
করে,
যে নামে নিজেকে পুর্ণ সমর্পন করতে পারে সে সেই নামের স্মরণ যোগে গভীর ভাবে দম সাধনা করবে। তবেই চক্র সমুহ জাগ্রত হবে।
এখনে দেখুন প্লীজ
আমি আজ শুরু করেছিলাম যা লিখব বলে লিখলাম সম্পুর্ণ ভিন্ন কথা। কিন্তু মন একের পর এক কথাগুলো সাজিয়ে দিল, না লিখলে হারিয়ে যেত।
তাই লিখে ফেললাম। পড়ুন একেবারেই লাইভ পোষ্ট। রেডি পোষ্ট; যেটা কাগজে লেখা আছে তা কাল দেব। অবশ্যই যদি আপনারা ধৈর্যচ্যুত না হন।
